আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশেষ উক্তি পর্ব-১ - ফিরে এসো

আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশেষ উক্তি পর্ব-১

আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশেষ উক্তি 

লোকজন  যখন আপনার ব্যাপারে গালগল্প, নিন্দা, কিংবা গুজব ছড়ায়, তখন শুকরিয়া আদায় করুন। আপনার মাঝে এমনকিছু আছে, যা তারা পেতে চায়। জেনে রাখুন, সর্বশক্তিমান (আল্লাহ) তাদের অপকর্মের বিচার করবেন । আপনি ঐসব মানুষের ভালোকাজ থেকে উপকৃত হবেন,অন্যদিকে আপনার পাপ তাদের কাঁধে তুলে দেয়া হবে।

কিছু লোক সর্বদা সত্যকে বদলের দেয়ার অজুহাত খুঁজে। তাদেরকে যতেই সংশোধন করুন না কেন, তারা আপনার কথা শুনবে না । তাই তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি যখন নিজের জীবনের সবকিছু প্রচার করে বেড়ান , তখন  এসবের সাথে সমস্যা তো আসবেই, তাই সেসব সমস্যাকেও মেনে নিন। আপনি যা শেয়ার (প্রচার) করেন, সে ব্যাপারে সচেতন হন।

প্রতিদিন এমন কিছু করুন, যা সর্বশক্তিমান (আল্লাহর )সাথে আপনার সম্পর্কের উন্নতি ঘটাবে। কাজটি যত ছোটই হোক না কেন, সেটা করে ফেলুন। আপনি পরিবর্তন অনুভব করবেন।

প্রায়শই আমরা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি ও আর্তনাদ করি, যেখানে অন্যরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ এবং জীবন পরিবর্তনকারী পরিস্থিতির মোকাবেলা করে।।

লোভ- লালসার ব্যাপারে সর্তক হন। এগুলো যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে। শেষ অবধি আপনি কি চান, নিজেকে বারবার সেটা মনে করিয়ে দিন। সকল ত্যাগের উপযুক্ত প্রতিদান জান্নাত।

আমাদের সকলেরই নেতিবাচক চিন্তা রয়েছে, এটা প্রমাণ করে, আমরা মানুষ। কিন্তু আপনার দৃষ্টিভঙ্গি  ইতিবাচক হলে, নেতিবাচক চিন্তা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় না।

[দুনিয়ার ] বিষয়াদী যতটা পারেন, সীমিত রাখুন। যখন আপনি সামনে এগিয়ে যাবেন, তখন জীবন থেকে সকল অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলতে হবে। এসব জিনিস তো আর আপনি সাথে করে [কবরে] নিয়ে যাবেন না। সাধারণ জীবন যাপন করুন এবং শান্তিতে ঘুমান। 

অনেক মানুষেকেই স্পটলাইটে তাদের জীবন কাটাতে হয় এবং যা করে, তা চিৎকার করে বলে বেড়ায় । ঐ মানুষ হন, যে লোকচক্ষু অন্তরালে থেকে [ চিৎকার করা ছাড়াই] নিজে থেকেই আলো ছড়ায়। 

বিভ্রান্তি ছড়ায় এমন লোকদের ব্যাপারে সতর্ক হন । সকল পরিস্থিতিতে তারা মিথ্যা কথা বলে এবং এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যেন সব দোষ কেবল আপনার । তাদের থেকে দূরে থাকুন, তারা কেবল আপনাকে কষ্ট দিয়ে যাবে।

মনে রাখবেন, চেহারা মূ্ল্যবান নয়, বরং আপনার চরিত্রই মূল্যবান । যদি গোলাপের কোনো সুগন্ধি না থাকে, তবে সেটার মূল্যই বা কি?

লোকেরা আপনার ব্যাপারে কি বলে বা চিন্তা করে, সেসব নিয়ে মাথা ঘামানো বন্ধ করুন। আপনার জীবনের আসল উদ্দেশ্যের দিকে মনোনিবেশ করুন। সর্বশক্তিমান (আল্লাহকে) সন্তষ্ট করুন, তবে সমস্ত জিনিস তাদের নিজস্ব জায়গায় যাবে। 

দ্বিমুখী নীতির ব্যাপারে সতর্ক হন। কিছু লোক মনে করে, তারা যাই করুক না কেন, আপনাকে সব সহ্য করে যেতে হবে। কিন্তু আপনি যদি তাদের সাথে একই আচরণ করেন, তবে তারা ফুুসে উঠে। 

নিজের জীবনকে পুনরায় মূল্যায়ন করুন। নতুন করে মনোযোগ দিন এবং আপনি ঠিক পথে আছেন কিনা, সেটা যাচাই করুন । মনে বিরক্ত সৃষ্টি করে, এমন জিনিসিকে উপেক্ষা করুন। দোয়া করুন, যাতে সর্বশক্তিমান (আল্লাহ) আপনাকে ঠিক পথে চালিত করেন। 

ভিন্নমত পোষণ করাটা স্বাভাবিক , কিন্ত কখনো আগ্রসী ও বদমেজাজ দেখাবেন না । উভয়পক্ষ আন্তরিক হলে, ভিন্নমত পারষ্পরিক বন্ধনকে প্রশান্ত করতে পারে। 

অন্যরা আপনার সম্পর্কে কি বলে, ঐসব বিষয়কে এতো গুরুত্ব দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আয়নাতে যা দেখতে পান, সেটার ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। আপনার সত্যিকার  প্রতিফলন আপনার অন্তরের মাঝে দৃশ্যমান হয়। 

‘আমাকে বিচার করবেন না’, এটাকে অজুহাত দাঁড় করিয়ে যেমন ইচ্ছা তেমন পোষাক পরিধান করবেন না। নিজের সীমানাকে জানুন। শালীনতা মর্যাদার আলামত। শালীনতা কোনো দুর্বলতা নয়। 

অন্যরা কি বলে সেসব কথাকে অগ্রাহ্য করতে শিখুন। লোকেরা কথা বলবেই। এরপর তারা ভুলে যায়। কিন্তু সর্বশক্তিমান (আল্লাহ) এমন এক সত্তা, যিনি সবকিছুই মনে রাখেন।

 কাজকর্ম, আচরণ থেকে শুরু করে আপনার চেহারা কেমন,সবকিছু নিয়ে লোকজন সমালোচনা চালিয়ে যাবে এবং আপনাকে নিধ্বস্ত করতে চেষ্টা চালাবে। তাদের ঐসব নেতিবাচক কথাকে ব্যবহার করে নিজের আরও উদ্দীপ্ত করুন, নিজেকে ঐসব কথা দ্বারা পরাজিত করবেন না। 

আপনার জরুরী কাজকে ঠিক রাখুন। লোকজন আপনাকে বিরক্ত করবে এবং লক্ষ্য থেকে দূরে সরাতে চাইবে। কিন্তু আপনি যদি তাদের প্রতিটি সামালোচনাতে কান দেন, তবে কখনো লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন না। 

যাই করুন না কেন, কিছু লোক সব সময়ই চাইবে আপনাকে লক্ষ্যে থেকে বিচ্যুত করতে। যতক্ষণ আপনি নিজের গন্তব্য সম্পর্কে অবগত আছেন, ততক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে যান। আল্লাহ আপনাকে চেষ্টা পথ দেখাবেন। 

সমাজ আপনাকে যা করতে বলে, সেটা দ্বারা জীবনকে মাপবেন না। আপনার পালন করা দায়িত্ব, আপনার শেয়ার বা বিস্তার করা ভালোবাসা এবং যেসব অন্তরকে আপনি জাগিয়ে তুলেছেন, সেসব সত্যই অমূল্য।

জীবনের মৌলিক জিনিসিগুলো মূল্যায়ন করুন। এদের মর্ম অনেক। আমাদেরকে বহু জিনিস দেয়া হয়েছে। তথাপি আমরা বেশ অকৃতজ্ঞ হয়েছি। এরপরও আমরা অভিযোগ করি। এসব  বন্ধ করে, সর্বশক্তিমান (আল্লাহকে) এখন থেকে ধন্যবাদ দিতে শুরু করুন।

ঐসব মানুষের মতো হতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান, দুনিয়া থেকে বিদায়ের পরও, যাদের উত্তম চরিত্র  আজও জীবিত তাই বিনয়ী, আন্তরিক ও সদয় হতে শিখুন। 

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.